ভালবাসার জন্য


তোমার কি ভালবাসা চাই?
কোন ভালবাসা? কতটা, কত গভীরতার?
যা চাও সবই দিতে পারব আমি।
ভালবাসার জন্য তাজমহল আমি বানাতে পারব না ঠিকই
তবে আমার হৃদয়ে যে তাজমহল, তোমার জন্য
তা কি দেখে কখনো শেষ করতে পারবে?
সম্রাট এডওয়ার্ডের মত কখনোই আমি সিংহাসন ছেড়ে দেব না
বরং তোমার জন্য তার একপাশে জায়গা করে দেব।

দান্তের মত হয়ত ডিভাইন কমেডি লিখে দিতে পারব না
অথবা কবি ইকবালের মত প্রেমের কোন মহাকাব্য
তবে হৃদয় নিঙরানো অনুভূতি ঠিকই বোঝাতে পারব তোমাকে
তোমাকে কোটি কোটি টাকা হয়ত দিতে পারব না ঠিকই
তবে কখনো তোমাকে কোন অভাবে রাখব না
অন্তত ভালবাসার অভাব তো নয়ই,
তোমার জন্য মায়ের শাসন, বাবার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে পারব
এক কাপড়ে রাস্তায় এসে দাড়াতে পারব
পুরোটা মেঘনাদবধ মুখস্ত শোনাতে পারব
আশি পৃষ্ঠার একটা রোমান্টিক প্রেমপত্র লিখে দিতে পারব
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে পারব
তুমি যদি বল, হেরে গলায় তোমাকে গানও শোনাতে পারব
শীতের রাতে সাতরে পুকুর পাড়ি দিতে পারব
দু’পায়ে ভর করে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ঘুরে আসতে পারব
ঘন্টার পর ঘন্টা অপলক তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারব
সারাজীবন তোমার অপেক্ষায় থাকতে পারব
ভালবাসার জন্য আমি কিন্তু অনেক কিছুই করতে পারব, করবোও
তবে ভালবাসাহীন কোন মানুষের জন্য, এক বিন্দুও নয়।

২৯.০৮.২০০৮
রাত ১১.০৬

স্মৃতি-বিস্মৃতি


একা থাকতে আমি বড্ড ভয় পাই
ভয় না পেয়ে উপায় আছে?
কিলিং স্কোয়াডের মত তোমার স্মৃতিগুলো
সারাক্ষন আমাকে তাড়া করে বেড়ায়।
পরিচিত সেই রাস্তা ধরে হাটলে
আজও মনে হয়, তুমি আসবে
পেছন থেকে এসে হাত বাড়িয়ে দেবে
এ ভয়েই তো সে রাস্তা ছেড়ে দিয়েছি আমি,
পরিচিত সেই গানের সুর কানে বাজলে
কিংবা পরিচিত সেই পারফিউমের ঘ্রান
আমাকে আবারো মনে করিয়ে দেয় তোমাকে
একা হতেই যে স্মৃতিগুলো ফিরে আসে
ভয় না পেয়ে উপায় আছে, বলো?
চকলেট খাওয়া তো ছেড়েই দিয়েছি
বৃষ্টিতেও ভিজতে পারি না
এখানেও যে স্মৃতিগুলো তাড়া করে বেড়ায়
বিশেষ কিছু দিন, বিশেষ কিছু মুহুর্ত
এমনকি মুঠোফোনটাও, তোমাকে মনে করিয়ে দেয়
তোমার স্মৃতিগুলোর ভয়ে ফেরারী না হয়ে উপায় আছে, বলো?

তাই তো আমি পরিচিত সব কিছু ছাড়তে চাইছি
আমার জগৎকে ছোট করে ফেলেছি
তোমার স্মৃতিগুলো আমার চারদিকে একটা বৃত্ত তৈরী করেছে
বৃত্তটা ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে
একসময় এরাই আমার সামনে এসে দাড়াবে, আমার গলা চেপে ধরবে
আমি জানি, তখনো একটা অস্ফুট আর্তচিৎকারই বেরুবে আমার মুখ থেকে
আমি তোমাকে ভুলতে চাই।

২৮.০৮.২০০৮
সকাল ০৭.১৪

তোমার কল্পনা এবং আমি


তোমার কল্পনার মানুষটির মত কখনোই হতে পারব না আমি,
কিভাবে পারব বলো?
সে নিশ্চই ভাড়া নিয়ে রিক্সাওয়ালার সাথে দরাদরি করে না
কিংবা কাচাবাজারে সবজির দাম বেশি বলে বিক্রেতার সাথে তর্ক জুড়ে দেয় না
তোমার কল্পনার রাজপুত্র নিশ্চই ঘর্মক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরে না
সে নিশ্চই বাসে ওঠার জন্য সহযাত্রী কে ধাক্কা দেয় না
আচ্ছা সে কি জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলে?
নাকি সে তোমার কল্পনার মত সারাক্ষন তোমাকে নিয়েই মশগুল।

সফেদ ভাতের প্লেটে চুল কেন? কিংবা তরকারিতে লবন কেন বেশি?
হাত খরচার টাকার জন্য সে কি মায়ের পিছন পিছন ঘুরঘুর করে?
মোড়ের টং দোকানওয়ালা নিশ্চই তাকে বাকি চেয়ে তাগাদা দেয় না।
সে নিশ্চই ছেড়া ফিতাওয়ালা স্লিপার নিয়ে মুচির কাছে যায় না।

আমি তোমার কল্পনার মানুষ কিভাবে হবো বলো?
আমি তো আর দেখতে শেষের কবিতার অমিতের মত নই
হুমায়ূনের হিমু কিংবা মিসির আলীর অতিন্দ্রীয়তাও যে আমাকে স্পর্শ করে না
খুব সাধারন, আটপৌরে জীবন আমার
তবুও আমি, তোমার আমি হতে চাই
হতে চাই আমি সেই ভালবাসার জোড়ে যে ভালবাসা আজও পৃথিবীর কেউ পায় নি।

তোমার স্বপ্নের সারথী আমি কি করে হবো বলো?
সে তো আর বন্ধুদের আড্ডায় পড়ে সময়জ্ঞান ভুলে যায় না আমি কি করবো বলো?
আমি যে মুঠোফোনে জীবনান্দের কবিতা আওড়াতে পারি না
মিষ্টি প্রেমপত্র কিংবা বাবার পকেট মেরে একগুচ্ছ গোলাপ
অথবা কিশোর ছেলেদের মত তোমার জন্য রোদে দাড়িয়ে থেকে জন্ডিস বাধানো
এর কোনোটাই যে আমাকে দিয়ে হবে না,
তোমাকে আকৃষ্ট করার মত কিছুই যে নেই
আমার তবুও আমি তোমার কাছাকাছি থাকতে চাই, হাত ধরতে চাই
আমি যে তোমাকে ভালবাসি, সত্যিই ভালবাসি এটুকুই কি যথেষ্ট নয়?

২৫.০৮.২০০৮
রাত ১০.৪৫